শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

নির্দিষ্ট ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শ্রেণির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব প্রোফাইল ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত রাখার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। ভিসা আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই (ভেটিং) প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা এবং আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে সংশ্লিষ্ট ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক’ রাখতে হবে।

দূতাবাস জানায়, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে এ-৩, সি-৩ (গৃহকর্মী হলে), জি-৫, এইচ-৩ এবং এর নির্ভরশীল এইচ-৪, কে-১, কে-২, কে-৩, কিউ, আর-১, আর-২, এস, টি এবং ইউ শ্রেণির অনভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এ নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় আবেদনকারীদের ব্যবহৃত সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস উন্মুক্ত রাখতে বলা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) তথ্য অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের জন্য এফ, এম ও জে ভিসা এবং এইচ-১বি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে একই ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ করা ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসন আইন অনুসারে অযোগ্য আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহার করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনকারীর উপস্থিতি পর্যালোচনাও সেই প্রক্রিয়ার অংশ।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা স্ক্রিনিংয়ের উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন অথবা অভিবাসন আইনের আওতায় ভিসার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। এ কারণে আবেদনকারীদের অনলাইন কার্যক্রম, পরিচয় ও তথ্যের সামঞ্জস্য যাচাই করা হয়।

তবে মার্কিন সরকার স্পষ্ট করেছে যে, ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাসওয়ার্ড চাইবেন না এবং তাদের অ্যাকাউন্টের কোনো নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করবেন না। আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় সংরক্ষিত থাকবে।  

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের প্রবণতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্য, পরিচয়, কার্যক্রম ও প্রকাশ্য বক্তব্য এখন অনেক দেশের ভিসা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে।

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে গত বছর উল্লেখ করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি ইতিহাস পর্যালোচনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। যদিও বর্তমানে কার্যকর নির্দেশনায় মূলত প্রোফাইল উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের উচিত আবেদনপত্রে প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা তথ্যের সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং প্রোফাইলে থাকা তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা। কারণ ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অনলাইন উপস্থিতি এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন