অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল, কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় কুয়েতের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক শত্রুতাপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

সোমবার ভোরে কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। পরে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, বিস্ফোরণের শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সময়ই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা একটি মার্কিন ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের কয়েকটি রাডার, ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েত সরকার ঘটনাটিকে তাদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কূটনৈতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন