অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বিএনপি সরকারই পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে কাজ শুরু করবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারই পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, দেশের পানি সংকট, লবণাক্ততা ও কৃষি সুরক্ষার স্বার্থে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।

বুধবার গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই বিএনপি সরকারই পদ্মা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে, ইনশাল্লাহ তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে। আজকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর নেতৃত্বেই তিস্তা নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তাই কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, সেটা বিএনপিই করেছে।”

তিনি জানান, সম্প্রতি সরকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের অংশ হিসেবে রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ভাষায়, সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন ব্যারাজ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশ খরা মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না। এ অবস্থায় বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ এবং খরার সময় কৃষকদের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে।

ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করছে, যার ফলে সুন্দরবনসহ আশপাশের অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন গাছপালা নষ্ট হচ্ছে, বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের ব্যারাজ নির্মাণ করতে হবে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় মার্চ মাসেও শীত অনুভূত হতো, কিন্তু এখন আবহাওয়ার ধরন বদলে গেছে। নগরায়ণ ও বৃক্ষনিধনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কক্সবাজারের যেসব এলাকায় আগে ঘন বনাঞ্চল ছিল, সেখানে এখন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বসতি গড়ে উঠেছে। এতে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে কক্সবাজার থেকে উখিয়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে তিন হাজার গাছ কাটার পরিকল্পনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে গাছ না কেটে বিকল্প উপায়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে রাজধানীর গুলশান ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অল্প গভীরতাতেই পানি পাওয়া যেত, এখন ৬০০-৭০০ ফুট গভীরে যেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এ প্রেক্ষাপটে সরকার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে খাল পুনঃখননের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

দুর্যোগ মোকাবিলায় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠানটি জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ জনবল তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি সবাইকে পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন