শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

রাজধানীর বনানী এলাকায় সরকারি জমিতে নির্মিত “বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং” প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করে তা বিভিন্ন উপায়ে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছে—এমন প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে বনানী থানা মামলা নং-১১, তারিখ ৭ মে ২০২৬, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তীতে সেখানে ফাইভ স্টার হোটেল “শেরাটন” পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-কে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তির শর্ত সংশোধন করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-এর প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়নি। এতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টিও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বেদখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর লন্ডারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ পরিচালনা করছে।

অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন