অনুসরণ করুন:
সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর, শুরু হয়েছে যৌথ অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নাজুক পরিস্থিতি থেকে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠন করে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে এবং সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সমাজকল্যাণ, পররাষ্ট্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ প্রশাসনে বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা আইন অনুযায়ীই হচ্ছে। বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত অপরাধীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামিন একটি আইনি বিষয় হলেও তারা যেন পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এতে পুলিশ, র‍্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বড় সিন্ডিকেটগুলোকে আইনের আওতায় আনা এ অভিযানের মূল লক্ষ্য।

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পোশাকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগের শার্ট বহাল থাকলেও প্যান্ট খাকি রঙের করা হবে। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে এটি দ্রুত কার্যকর করা হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে উঠেছে, যেখানে গঠনমূলক বিতর্ক ও আইন প্রণয়ন হয়েছে—যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন