অনুসরণ করুন:
সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর দাপট অটুট, তৃণমূলের কৌশল ভেস্তে দিল বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে আবারও নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবারের নির্বাচনে তিনি তৃণমূল প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে আসনটি আরও দৃঢ়ভাবে নিজের দখলে রাখেন। ফলাফল অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি।

এই আসনকে কেন্দ্র করে এবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল তুমুল উত্তেজনা। তৃণমূল কৌশলগতভাবে বিজেপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক প্রার্থীকে দলে টেনে এনে লড়াই জমাতে চেয়েছিল। তবে সেই কৌশল কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম জয়ের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছিল, ফলাফল তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।

নন্দীগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে আসছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই ফল নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকলেও রাজনৈতিকভাবে আসনটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক বছরে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় পর্যায়ে ভেতরকার বিভাজন ও আস্থাহীনতার প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করে, নন্দীগ্রামে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভোটে তার প্রতিফলন দেখা গেছে।

নির্বাচনের সময় প্রচারণায় শুভেন্দুর সক্রিয়তা ও মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপরীতে প্রতিপক্ষ শিবিরের প্রচারণা তুলনামূলক কম দৃশ্যমান ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসা নন্দীগ্রাম এখনো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন