অনুসরণ করুন:
সোমবার, ৪ মে ২০২৬

১৭৯ ‘শ্যাল’, ৩ ‘উইল’: যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে বাংলাদেশের কাঁধেই বেশি বোঝা?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড’ (এআরটি) নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিকে অনেক বিশ্লেষক ভারসাম্যহীন বলছেন। তাঁদের মতে, চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর ব্যাপক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের দায় তুলনামূলকভাবে সীমিত।

জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির ভাষাতেই এ ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত রয়েছে। নথিতে বাধ্যতামূলক অর্থে ব্যবহৃত ‘শ্যাল’ শব্দটি আছে ১৭৯ বার, আর ইচ্ছাধীন অর্থে ব্যবহৃত ‘উইল’ আছে মাত্র ৩ বার। এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ শ্যাল’ এসেছে ১৩১ বার, বিপরীতে ‘ইউএস শ্যাল’ রয়েছে মাত্র ৬ বার।

চুক্তির বিভিন্ন ধারায় শুল্ক, অশুল্ক বাধা, কৃষিপণ্য, মেধাস্বত্ব, সেবা খাত, ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রম, পরিবেশ, বিনিয়োগ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য নানা বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। মার্কিন কৃষিপণ্য, চিকিৎসা যন্ত্র, ওষুধ, গাড়ি, জৈবপ্রযুক্তি পণ্য, দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রি পণ্যের বাজার প্রবেশ সহজ করার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত।

ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক কর আরোপ না করা, সীমান্ত পেরিয়ে ডেটা আদান-প্রদান সহজ করা এবং ইলেকট্রনিক কনটেন্টে শুল্ক না বসানোর বিষয়ও চুক্তিতে রয়েছে।

এ ছাড়া বিনিয়োগ খাতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামোতে মার্কিন বিনিয়োগ সহজ করার কথা বলা হয়েছে। শ্রম আইন সংশোধন, ইউনিয়ন গঠন সহজ করা, ইপিজেডে শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন ও পরিবেশ সুরক্ষা জোরদারের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা ধারা। এতে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, সংবেদনশীল প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরকরণ এবং তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বিবেচনার বিষয় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি, কৃষি, শিল্প, ডিজিটাল খাত ও নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতার ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই চুক্তির প্রতিটি ধারা জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করা এবং জাতীয় স্বার্থের আলোকে পর্যালোচনা করা জরুরি।

সূত্র: প্রথম আলো।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন