অনুসরণ করুন:
সোমবার, ৪ মে ২০২৬

‘যুদ্ধ থামেনি’—গাজায় বিরতি ভঙ্গ করে চলছেই ইসরাইলি হামলা, নতুন আক্রমণের আশঙ্কা

গাজার খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহর ধ্বংসস্তূপে এখনো প্রতিদিন শোনা যাচ্ছে ইসরাইলি ড্রোনের শব্দ ও বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজ। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে যুদ্ধ থামেনি—এমনটাই বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করছে।

স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে গাজার মানুষ।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রোববার নির্ধারিত নিরাপত্তা বৈঠক হঠাৎ বাতিল করে সীমিত পরিসরে আলোচনা চালান। এদিকে দেশটির সামরিক বাহিনীও আবার পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করার পক্ষে চাপ বাড়াচ্ছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক তদারকি ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে নতুন করে যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য।

মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে গাজার আরও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ পশ্চিমে ঠেলে দিয়ে তারা এখন গাজার প্রায় ৫৯ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীরা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর ওপর নতুন একটি প্রস্তাব গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের শর্ত দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। তবে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠন এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোকেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও সামরিক ক্লান্তিও এই উত্তেজনার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একাধিক ফ্রন্টে সংঘাতের কারণে ইসরাইলি সেনাবাহিনী চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে তা কৌশলগতভাবে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে এসব কূটনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশের মাঝেই সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৬০৮ জনে পৌঁছেছে। শুধু রোববারই ইসরাইলি হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের বাসিন্দারা এখনো অনিশ্চয়তা, দখলদারিত্ব এবং নতুন এক বিধ্বংসী যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন