সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ তালিকায় শিল্প গ্রুপের মালিক ও রাজনৈতিক কর্মী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান
চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে দেশের সব ব্যাংকে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
তালিকায় দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিল্প গ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীর নাম রয়েছে। তাদের বেশির ভাগই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অথবা দলটির সরকারের আমলে বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
১২ শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থায়নের অভিযোগ
রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, অন্তত ১২টি শিল্প গ্রুপের মালিক চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার উদ্দেশ্যে অর্থায়ন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিস্তারিত খতিয়ে দেখতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ও নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গাজীপুরের ১০ কারখানার নাম গোয়েন্দা প্রতিবেদনে
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগপন্থি ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন গাজীপুরের অন্তত ১০টি পোশাক কারখানার নাম এসেছে। এসব কারখানা থেকে শ্রমিক আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বক্তব্যেও এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকে কারখানায় কাজ করতে চাইলেও আন্দোলনে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া দাবি করেছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শ্রমিকই জানেন না, কী কারণে তারা এতে যোগ দিচ্ছেন।
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও অব্যাহত আন্দোলন
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরিসহ কয়েকটি দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয়। এরই মধ্যে আন্দোলনের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। ধীরে ধীরে তা সহিংস রূপ নিচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন নির্ধারণের জন্য রোববার সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরপরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পাঁচ শিল্পাঞ্চলে অনুপ্রবেশের তথ্য
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ও নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এদিকে পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ৪০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

