প্রাথমিকভাবে ২ লাখ টন ধারণক্ষমতা নিয়ে প্রকল্প শুরুর প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর
পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গায় রাশিয়ার অর্থায়নে বৃহৎ ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানান এবং এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পায়রা বন্দরে সাইলো নির্মাণের সম্ভাবনা
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার অর্থায়নে কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দেন রুশ রাষ্ট্রদূত। জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার এলাকায় জমির অপ্রতুলতার কারণে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গা বিবেচনা করা যেতে পারে।
আফরোজা খানম বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরে প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো ও যোগাযোগসুবিধা থাকায় সেখানে বড় ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলা হলে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম দেশে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
গমের সরবরাহ ও সংরক্ষণব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সাইলোতে সংরক্ষিত গম পরবর্তী সময়ে দেশের বেসরকারি গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যাবে। পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও সেখান থেকে গম কেনার সুযোগ তৈরি হবে।
তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গম সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও রাশিয়া উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, পায়রা বন্দরে সাইলো নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গম পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে গম সহজে ও কার্যকরভাবে পরিবহন করা সম্ভব হবে।
জি টু জি ভিত্তিতে গম রপ্তানির প্রস্তাব রাশিয়ার
সাক্ষাৎকালে সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পায়রা বন্দর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ
প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান খাদ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করা হলে সাইলো নির্মাণের উপযুক্ত স্থান, বিদ্যমান অবকাঠামোগত সুবিধা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যানেসতেশিয়া নিমোভা, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

