ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, তাঁতশিল্পের প্রান্তিক তাঁতিদের কাঁচামাল সরবরাহ সহজ করা এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. শরীফুল আলম, এস এম ফয়সল, মো. আব্দুল্লাহ, রেজেকা সুলতানা, মো. আফজাল হোসেন, হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার এবং মাহবুবা হাকিম অংশ নেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় মন্ত্রণালয় গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
কমিটির সভাপতি স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনা এবং এ লক্ষ্যে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
সরকারি কার্যক্রমে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একই প্রতিষ্ঠানকে একাধিক টেন্ডার না দিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও টেন্ডার দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তচালিত যন্ত্রপাতির পরিবর্তে যান্ত্রিকীকরণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। তাঁতশিল্পের প্রান্তিক তাঁতিদের জন্য সুতা, রং ও অন্যান্য কাঁচামাল সহজলভ্য করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করে তাঁতি সমিতি অথবা ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়।
দিনাজপুরের রাণীর বন্দরে তাঁত বোর্ডের অফিসের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট জমিগুলো লিজ বা অন্য কোনো উপায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।
বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

