বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

জনকল‍্যাণভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে: জামায়াত আমির

অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের, প্রত্যেক অপরাধের জবাবদিহির হুঁশিয়ারি

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন লুটেরা ও চাঁদাবাজদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। প্রত্যেক অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।”

অন্যায়ের জবাবদিহি করতে হবে সবাইকে

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মানুষের ওপর জুলুম করা, অধিকার হরণ করা এবং অন্যের প্রাপ্য অধিকার নষ্ট করার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব আমৃত্যু পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে তাঁদের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তাঁরা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান রেখেছিলেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ধারণ করেছিলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সাবেক এক বিচারপতির সীমান্ত থেকে আটক হওয়ার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

আদর্শিক পরিবর্তনের আহ্বান

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চট্টগ্রামে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের এ আয়োজন তাঁকে অভিভূত করেছে।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন দুনিয়াবি স্বার্থ বা ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন পরিচালিত হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ একটি আদর্শিক পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। এ পরিবর্তন ছাড়া দেশের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশার কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। জনগণের এ প্রত্যাশাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, সততা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, চট্টগ্রামকে ইসলামের রঙে রাঙাতে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁদের অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, বাংলাদেশ একদিন ইনসাফ ও কল্যাণের রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তাঁরা আশা করেন। সেই বাংলাদেশ দেখতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করতে ছাত্রশিবির প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, সাম্য ও জনকল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মুমিনের দৃষ্টান্ত একটি ভবনের মতো। একটি ভবন নির্মাণে যেমন ইট, বালু ও সিমেন্ট প্রয়োজন, তেমনি একটি আদর্শিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে সংঘবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা আর সাবেক থাকব না; বরং আনসার ও মুহাজিরদের মতো শপথবদ্ধ জীবনে প্রবেশ করব।”

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে, ততক্ষণ ইসলামী আন্দোলনের পথে অবিচল থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাবেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন