বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পাখির উড়াউড়ি ও কোলাহলে মুখরিত চলনবিল

প্রচলিত আছে- গ্রাম দেখলে কলম, আর বিল দেখলে চলন। মৎস্য ও শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিলে এ বছরও লাখ লাখ পাখির আগমন ঘটেছে। কাকডাকা ভোর হতেই রূপালী সম্পদ নানা প্রজাতির মাছের অবাধ বিচরণ, সাদাবক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক আর শীতের শুরুতে অতিথি পাখিদের কোলাহল, কলরব, গুঞ্জন, নাম না জানা হাজারও পঙ্খীমালা নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো, ঋষি বকের ধ্যানমগ্ন ছবি মানুষের মনে অনাবিল সুখানূভুতির সৃষ্টি করেছে। বিলের অল্প পানিতে ডুব দিয়ে টেংরা, পুঁটি, পাতাসি, শিং, মলা মাছ ধরে খাওয়ার অপরূপ দৃশ্য আর পাখিদের একসঙ্গে দৌড়ঝাঁপ যেন এক নৈসর্গিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পুরো চলনবিল এখন অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত।

সূত্রে জানা যায়, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই চলনবিল। বিশেষ করে সিংড়া উপজেলার অধিকাংশ স্থানজুড়ে এর অবস্থান। এই বিলে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুইপাশে ও সিংড়া-বারুহাঁস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কে নামলেই প্রকৃতির মাঝে সাদাবক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বালিহাঁসসহ অসংখ্য অতিথি পাখির উড়াউড়ি, কোলাহল, কলরব চোখে পড়ে। আর মাছে ভরপুর হাঁটুপানিতে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখিদের মিলনমেলায় যেন স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে চলনবিলজুড়ে। কাকডাকা ভোরের আলোতে চলনবিলজুড়ে দলবদ্ধভাবে অতিথি পাখির বিচরণ করার চিত্র যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিল হালতী ত্রিমোহনী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, প্রতি বছর এ সময় চলনবিলে নিজেদের আহার জোগাতে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। প্রকৃতির মাঝে পাখ-পাখালির বিচরণ ও ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এরই মাঝে কিছু লোভী শিকারি ফাঁদ পেতে সেই পাখি শিকারও করে থাকে। এই বিলের পাখি রক্ষায় তারা ২০১২ সাল থেকে বিলের দুর্গম এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবহিত করছেন এবং বিলে পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্য ভরপুর একটি বিল। এই বিলে অসংখ্য পাখির আগমন ঘটেছে। বিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাঁকডাকা ভোর থেকে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা নিয়োজিত থাকেন। ইতোমধ্যে তাদের সহযোগিতায় কিছু অসাধু পেশাদার পাখি শিকারিদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। ফলে পাখির নিরাপদ আশ্রয় তৈরি হয়েছে। বিলের সবুজ প্রকৃতিতে পাখির বিচরণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চলনবিলকে একটি পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এই বিলের পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। প্রশাসনসহ স্থানীয় পরিবেশ কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন