কৃষক পরিবারের স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মাওলানা আবদুল হালিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকগুলোই তারা ভঙ্গ করেছে। তাঁর দাবি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানালেও সরকার গঠনের পর বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেওয়া হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপির কর্মকাণ্ডে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কারের কথা থাকলেও এখন সংবিধান সংশোধনের পথে এগোনো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে, বিএনপিও একই পথে হাঁটছে বলে তাঁরা মনে করেন। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটের মাধ্যমে এ ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।
কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশক পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাওলানা আবদুল হালিম অভিযোগ করেন, দলীয়করণের কারণে কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না এবং তাঁদের আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে আবারও বিএনপি নির্বাচিত হলে কৃষকেরা কৃষি উপকরণ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে উল্লেখ করে তিনি কৃষক পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গড়েয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নুরুল হুদা। পরিচালনা করেন ইউনিয়নটির সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান, দিনাজপুর জেলার সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যরা। এ সময় স্থানীয় ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে জামায়াত নেতারা গড়েয়া ইউনিয়নের শহীদ সাঈদ রুবেল, শহীদ দাইমুল ইসলাম, শহীদ দুলাল ইসলাম, শহীদ ফিরোজ হাসান ও শহীদ মনির হোসেনের কবর জিয়ারত করেন।
দলীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে তাঁরা নিহত হন।
এদিকে, রোববার সকালে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনের বিভিন্ন বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে এবং আসন পরিচালক ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আলমগীরের পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে মাওলানা আবদুল হালিম গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা এবং সার্বিক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বাধা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তিনি নিন্দা জানান এবং নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
আগামী ২৬ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠেয় প্রধান নির্বাচনী সভা সফল করতে দায়িত্বশীলদের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ওই সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সভায় ১১-দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মাওলানা আবদুল হালিম সদর উপজেলার গড়েয়া, ভুল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর, বালিয়া ও দেবীপুর এবং রুহিয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

