শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে বস্তাবন্দি নারীর মরদেহ উদ্ধার: হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বস্তাবন্দি ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সাম্পান নৌকাও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর সংবাদ সংক্ষেপে এসব তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই জানায়, গত ২ আগস্ট দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খালে ভাসমান অবস্থায় এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ পুলিশ। তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিখোঁজ জান্নাতুল ফেরদৌসের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে তাঁর স্বামী রাজা মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। গত ৬ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ অক্টোবর টেকনাফ এলাকা থেকে মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) এবং পরদিন ১৩ অক্টোবর কর্ণফুলী থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে নৌকাচালক শুক্কুর আহম্মদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মো. মুসলিম উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, নিহতের দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজু প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে তাঁকে বিয়ে করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দাম্পত্য কলহের জেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআইয়ের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই রাজা মিয়া ফোন করে জান্নাতুল ফেরদৌসকে কর্ণফুলী থানার ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান। পরে নৌকায় ঘোরার কথা বলে তাঁকে একটি সাম্পানে তোলা হয়। সেখানে অন্য সহযোগীরাও ওঠেন। এরপর নৌকাটি শিকলবাহা খালে নিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ বস্তাবন্দি করে খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন