শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দুধে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

দুধে ভেজাল মেশানোকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি ও ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ভেজাল দুধ প্রতিরোধে দুগ্ধ খামারি, উৎপাদক, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিশুখাদ্য হিসেবে দুধের কোনো বিকল্প নেই। অথচ দুধে ভেজাল মিশিয়ে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, দেশের দুগ্ধ উৎপাদন ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পাবনার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে সম্প্রতি জেলার দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ভেজালের খবর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি জেলার দুগ্ধশিল্পের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভেজাল প্রতিরোধে কোনো ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করা শুধু সরকারি সংস্থার দায়িত্ব নয়। খামারি, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, দুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পাবনার বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সভার আগে তিনি পাবনার চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায় প্রাণ গ্রুপ ও ফারুক চিলিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রাণ গ্রুপের চিলিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, দুধের গুণগত মান সন্তোষজনক না হওয়ায় সেদিন পাঁচটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দুধ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভেজাল প্রতিরোধে দুধ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, পাবনা দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যক্তির কারণে হাজারো সৎ ও পরিশ্রমী খামারির সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া যাবে না। ভেজাল দুধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

তিনি দুধের গুণগত মান পরীক্ষা ও ভেজাল শনাক্তে পাবনায় একটি স্থায়ী পরীক্ষাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দুধ শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি দুধের পরিমাণ বাড়ানো, ঘনত্ব পরিবর্তন কিংবা সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন উপাদান মেশাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ভেজাল দুধ গ্রহণে পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা এবং কিডনি ও লিভারের ক্ষতিসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ক্যাবের পাবনা জেলা সভাপতি, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দুগ্ধ খামারি, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা ভেজাল দুধ প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন