শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, নৌকাবাইচ ও ঘুড়ি উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা; বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ওপর গুরুত্বারোপ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে দিতে হবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।”
শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে নানা আয়োজন
সভায় লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণেও উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
শিল্পকলা একাডেমি সক্রিয় করার নির্দেশ
সভায় জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা তাঁদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ
নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করতে বলেন তিনি।
পাশাপাশি পাঠচক্র, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।
দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপস্থিত প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। সবাইকে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

