১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা ব্যবসায়ীদের, ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখে ধর্মঘটের চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছেমতো ধর্মঘট ডাকা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জ্বালানিমন্ত্রী। ব্যবসায়ীরা আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করার চেষ্টা করলে আমরা ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করব। দাম বাড়ানোর জন্য ইচ্ছেমতো ধর্মঘট ডাকা যাবে না। এটা মেনে নেওয়া হবে না।”
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও এলপিজি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনের সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা ব্যবসায়ীদের
ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ, কমিশন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই দিনের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এলপিজি ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন।
ব্যবসায়ীদের এ ঘোষণার ফলে দেশের বাজারে এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করছে এবং সরবরাহের উৎসগুলোও ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে রয়েছে। অন্য উৎসগুলো অনিশ্চিত। আমরা ভোক্তাদের জন্য দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে দেবে না। তাই ব্যবসায়ীদের সরবরাহ বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী
এদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ব্যবসায়িক দাবি আদায়ে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এখনো কার্যকর রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “লাভ-লোকসান, কমিশন বা অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ করে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা মেনে নেওয়া হবে না।”
বাজার অস্থিতিশীল করা কিংবা ভোক্তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত
এলপিজি খাতের চলমান পরিস্থিতি, ব্যবসায়ীদের দাবি এবং ভোক্তাদের জন্য জ্বালানির দাম সহনীয় রাখার বিষয়ে আলোচনার জন্য সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হলেও ১৫ ও ১৬ অক্টোবরের প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

