বাস্তুচ্যুতদের মোবাইল চার্জিং কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ; গাজা নগরীতে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্রযাত্রায় নতুন করে ঘর ছাড়ছে পরিবারগুলো
প্রান্তকাল ডেস্ক | আন্তর্জাতিক | ১২ অক্টোবর ২০২৬
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালের কাছে বাস্তুচ্যুত মানুষের ব্যবহৃত একটি তাঁবু লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১১ অক্টোবর) খান ইউনিসের কেন্দ্রস্থলের আল-বুরাক এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নাসের হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর হতাহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আহতদের মধ্যে কতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, ইসরায়েলি একটি ড্রোন থেকে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তাঁবুটিতে নিক্ষেপ করা হয়। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা সেখানে সম্মিলিতভাবে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।
জাবালিয়ায় গুলিবিদ্ধ ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু
এদিকে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আহত ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু জিহাদ ইয়াদ আল-গান্দুর মারা গেছে।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গাজা নগরীতে স্থল অভিযান, ঘর ছাড়ছে পরিবারগুলো
একই সময়ে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও সম্প্রসারণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
রোববার ভোরে পূর্ব গাজার শুজাইয়া এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি ও কামানের গোলাবর্ষণের মধ্যে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্রসর হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এই সামরিক তৎপরতায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে কয়েক ডজন পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন উদ্বেগ
গাজায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকা সত্ত্বেও নতুন করে প্রাণহানি, ড্রোন হামলা এবং স্থল অভিযানের খবর অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো এসব ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে সর্বশেষ হামলা ও সেনা অবস্থান সম্প্রসারণের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড

