সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল

জামিন আবেদন নামঞ্জুর • আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আদালতের আদেশ • আসামি প্রথম স্ত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকও কারাগারে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার দ্বিতীয় দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজী নজরুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড

গত ২০ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

প্রথম দফার রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর আবার আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপোন হোসেন দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুই দফায় মোট আট দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করা হলে এবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় মরিয়মের মরদেহ

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্যের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ জানিয়েছিল, মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তার এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

মামলার এজাহারে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর মরিয়ম ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদার সঙ্গে থাকতেন।

এজাহারে বাদীর দাবি, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এগুলো মামলার অভিযোগ; আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি।

২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পৌঁছে তিনি মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলায় দাবি করেছেন।

এজাহার অনুযায়ী, মরিয়মের বিছানার ওপর একটি কথিত ‘সুইসাইড নোট’ও পাওয়া যায়। নোটটি মামলার তদন্তের অংশ।

অন্য দুই আসামিও কারাগারে

একই মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তারকে এক দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠান আদালত।

অন্য আসামি ওবায়দুর রহমানকেও ২৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

ফলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় নাম থাকা তিন আসামিই বর্তমানে কারাগারে।

মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মরিয়মের মৃত্যুর কারণ এবং মামলায় আনা আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন