শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুটানের ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ নির্মাণে জনশক্তি দিতে চায় বাংলাদেশ

ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা • পেশাজীবী ও দক্ষ-আধাদক্ষ কর্মী পাঠাতে আগ্রহ ঢাকার • সার্ক পুনরুজ্জীবনে থিম্পুর সমর্থন চাওয়া হয়েছে • দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভুটানের উচ্চাভিলাষী গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (GMC) নির্মাণে পেশাজীবীর পাশাপাশি দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি দিয়ে সহযোগিতা করতে চায় বাংলাদেশ। জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর আলোচনায় এ আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সংক্ষিপ্ত বৈঠকে তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বাংলাদেশ ও ভুটানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

গেলেফু প্রকল্পে বাংলাদেশি জনশক্তির প্রস্তাব

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি। বাংলাদেশ জানায়, প্রকল্পটির উন্নয়ন ও নির্মাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী সরবরাহের মাধ্যমে অবদান রাখতে ঢাকা আগ্রহী।

এর মাত্র দুই দিন আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জির সঙ্গে বৈঠকেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির একই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি গেলেফুর উন্নয়নে বাংলাদেশি পেশাজীবী ও দক্ষ-আধাদক্ষ কর্মীদের সম্পৃক্ত করার আগ্রহের কথা জানান।

ভুটানের গেলেফুতে নির্মাণাধীন এই বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বিত কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির বিভিন্ন অবকাঠামোগত কার্যক্রম ইতোমধ্যে এগোচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রস্তাব বাস্তব রূপ পেলে দেশটির জন্য নতুন একটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কতসংখ্যক কর্মী নেওয়া হতে পারে বা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগ কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সরকারি বিবৃতিতে তা উল্লেখ করা হয়নি।

সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সমর্থন চাইল ঢাকা

বৈঠকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়টিও উঠে আসে।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণার কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের মন্ত্রীরা সার্ককে আবার কার্যকর ও গতিশীল করতে ভুটানের সমর্থন চান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ও জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনাতেও সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি এসেছে। গত আগস্টে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনায় আঞ্চলিক সংস্থাটিকে পুনরায় সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

১৯৭১-এর সম্পর্ক স্মরণ

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ হিসেবে ভুটানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন বাংলাদেশের মন্ত্রীরা।

তারা বলেন, সেই সময় থেকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে। দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করে।

বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ, জ্বালানি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। আগস্টে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভুটানের গেলেফু প্রকল্পের পাশাপাশি কুড়িগ্রামে ভুটানের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী প্রায় এক ঘণ্টা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থান করেন। এরপর তিনি জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিতে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না হলেও গেলেফু প্রকল্পে বাংলাদেশি জনশক্তি সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব এবং সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সমর্থন চাওয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার দুটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র সামনে এনেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন