রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাউফলে পুলিশ-সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট



পটুয়াখালীর বাউফলে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া, চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।


অভিযুক্তরা হলেন বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা এলাকার এনামুল হক এনা (৩৫) ও বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শেরে-বাংলা সড়কের মো. রিয়াজ (৩৫)।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১০ মিনিটে বাউফল থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন ভবরঞ্জন মন্ডল। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনামুল হক এনা, মো. রিয়াজসহ কয়েকজন তাঁর বাড়িতে গিয়ে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় এনামুল হক নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য এবং রিয়াজ নিজেকে বাউফল থানার পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।


এজাহার অনুযায়ী, তাঁরা বাদীর পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে এক মুসলিম তরুণীর বিয়ের বিষয়টি তুলে ধরে নানা প্রশ্ন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই বিয়ে স্বেচ্ছায় হয়েছে এবং তাঁদের সংসারে সন্তানও রয়েছে। এরপর বিষয়টি ‘সমাধান’ করে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা লোকজন ডেকে এনে ওই নারীকে জোর করে আটকে রাখার অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। একপর্যায়ে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার করে এনে এনামুল হক এনার হাতে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তরা আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাউফল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. ইব্রাহিম মোল্লা তদন্ত শেষে গত ২৮ আগস্ট অভিযোগপত্র নম্বর ২৩০-এর মাধ্যমে আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বাদী ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণসহ বিভিন্ন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে এনামুল হক এনার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় এবং মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে ৪৪৮, ১৭০, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পটুয়াখালী থেকে তদন্তসংক্রান্ত মতামত পাওয়ার পর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।


এদিকে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজ হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাঁদের ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, “তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন