বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রামপালে কয়লার বদলে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে হেলেন জেরিন খানের উত্থাপিত নোটিশের জবাবে তিনি সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এই বাড়তি চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য, পানি, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও এগ্রি-ভোল্টাইকসসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও সংসদে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রাংশ আমদানিতে আগামী ছয় মাসের জন্য অতিরিক্ত বিভিন্ন শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি জমিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নেট মিটারিং গাইডলাইন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রামপাল প্রকল্পের পাশাপাশি মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্রকল্পের অব্যবহৃত অ্যাশ পন্ড এলাকায় ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদ ভবনকেও ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুরো ভবনকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সংসদে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন