রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বৈরশাসনের শক্তিকে ফেরার সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি দেশের চলমান সংকটকে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আগের স্বৈরশাসনের সময়ে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী গোপনে সক্রিয় ছিল এবং পরবর্তী সময়ে তাদের কয়েকজন নিজেদের সম্পৃক্ততার কথাও স্বীকার করেছেন। এখন সেই গোপন নেটওয়ার্কের ভেতর থেকে কেউ অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা আত্মগোপনে রয়েছে, তারা যদি স্বৈরশাসনকে পুনরায় সামনে নিয়ে আসার জন্য কাজ করে থাকে, তাহলে তাদের কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জাতীয়তাবাদী শক্তি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘কে কার দায়িত্ব নিচ্ছে এবং কে কাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে’—তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পরস্পরকে রক্ষা করার রাজনীতিও জনগণের সামনে উন্মোচন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৭১, ১৯৮৬, ১৯৯৬ এবং গত দেড় দশকের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে কিছু রাজনৈতিক শক্তি তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। তাদের রাজনীতি ও ভূমিকা জনগণের সামনে পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে দুঃখ প্রকাশ

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংকটের কারণে যারা কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের সবার কাছে দলের পক্ষ থেকে তিনি দুঃখিত।

তারেক রহমান বলেন, অর্থনীতি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে আগের স্বৈরশাসন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে তার সরকার নানা সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তবে এসব সমস্যাকে সরকারের ব্যর্থতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকার সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে জনগণের সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে ভবিষ্যতে যাতে মানুষকে এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে না হয়, সে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চলমান সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি এবং অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক নৈতিকতা সমুন্নত রাখবে।

কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী তা মোকাবিলা করা হবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানান।

জ্বালানি সংকট বড় চ্যালেঞ্জ

দেশের বর্তমান সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে জ্বালানি সংকটকে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে প্রভাব ফেলছে।

আগের সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সমস্যাগুলোকে নিজেদের ব্যর্থতার অজুহাত হিসেবে দেখাতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে মানুষ কোনো বাধা ছাড়াই নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

পাঁচ দিনের কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবারের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া কর্মসূচি শনিবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশের ও দলের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন