মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গেন্ডারিয়ায় ২০-২৫ জনের সশস্ত্র হামলা, গুলিতে আহত ৩

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ-মুন্সিরটেক এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল এলোপাতাড়ি গুলি ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই ঘটনায় ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবুকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করারও অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে রেললাইনসংলগ্ন স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল এলাকায় আসে। তাদের অনেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে মানুষজন ছোটাছুটি শুরু করলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানের শাটার নামিয়ে দেন।

গুলিতে আহত তিনজন হলেন চা-দোকানি আলমগীর (৩৩), আশা আক্তার (২০) ও খাবারের দোকানের কর্মী সিয়াম (১৮)। আশা বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। আর সিয়াম দোকানের শাটার বন্ধ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন। চা-দোকানি আলমগীর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুদিদোকানি মো. ইদ্রিস (৪৮) বলেন, তিনি তখন এক ক্রেতাকে মালামাল দিচ্ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে দ্রুত দোকানের শাটার নামিয়ে সেখান থেকে চলে যান। হামলাকারীদের বেশির ভাগের হাতেই অস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে বিকেলে গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে মো. রাকিব (২২), মো. বিল্লাল (২৫) ও মো. রিফাত (২১) নামের তিন তরুণকে মাদক বিক্রির সময় আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। পরে তাঁদের বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরে পুলিশ ডেকে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ওই তিন তরুণকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় হামলার আশঙ্কা করছিল। তাঁদের থানায় পৌঁছে দিতে স্থানীয় কয়েকজনও সঙ্গে যান। এর কিছুক্ষণ পরই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল এসে গুলি ছোড়ে। এ সময় মনির হোসেনের কার্যালয়সহ আশপাশের আরও পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।

ঘটনার সময় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. রাজন বলেন, তিন তরুণকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা জানতে পারেন মনির হোসেনের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং এলাকায় গোলাগুলি হচ্ছে। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা স্বামীবাগ এলাকার একটি গলিতে দাঁড়িয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. মনির হোসেন ও তাঁর ভাগনে রাসেল মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘অটো সজলের’ লোকজনকে মারধর করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মনির হোসেন তাঁর কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। দু-একটি দোকান খোলা থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে আগের রাতের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। অনেকেই ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির পরিদর্শক সাইফুর রহমান জানান, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত পুলিশ আগেই সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়েছে। মাদককে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলেও তাঁদের দাবি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী এস এম শফিক বলেন, এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এতে তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন