মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদিতে চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার ও নির্যাতন, সিআইডির হাতে চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে ফাস্টফুডের দোকানে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর সেখানে নিয়ে নির্ধারিত কাজ না দিয়ে আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর থানাধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট (টিএইচবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সালমান হোসেন (৩৩)। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার শংকরপুর (গাইনপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।

সিআইডি জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, একটি মানবপাচারকারী চক্র সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি হলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। পরে ৭ জুন ২০২৫ তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে কোনো চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার সালমান হোসেন চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে একটি বাসায় আটকে রাখেন। পরে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের জন্য তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে একটি মরুভূমি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন। পরে সৌদি পুলিশের হাতে তিনি আটক হন। এরপর ২২ জুলাই ২০২৬ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার থানায় মামলা করেন। মামলাটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। এতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৭ ও ৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে সালমান হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সৌদি আরবে ভুক্তভোগী যে বাসায় আটক ছিলেন, সেটি গ্রেপ্তার সালমান হোসেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভিসা দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন