জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, এনসিপি বর্তমানে ল্যাপটপ চোর, ছাগল চোর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সংগঠন হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের অপরাধীদের পুনর্বাসন কারখানায় পরিণত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে এনসিপি ও বিরোধীদের নানা বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন অনন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য মিলেও তার মেধা ও যোগ্যতার ধারে-কাছে যেতে পারবেন না। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে তাকে মোকাবেলা করতে না পেরে তারা বিদ্যুৎসংকট বা আন্তর্জাতিক কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের মতো প্রতিটি ইস্যুতেই অন্যায়ভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেনে আনছেন।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের আমলে নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে সোচ্চার ছিলেন। অথচ জামায়াতের কোনো নেতাকে সেই স্বৈরাচারী জামানায় এভাবে রাজপথে বা বক্তব্যে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়নি।
এনসিপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ছাগল চুরির ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। তা ছাড়া এনসিপির বহু নেতা নারী কেলেঙ্কারি, ডিসি নিয়োগে তদবির, থানায় চাঁদাবাজ ছাড়ানো এবং সাবেক এমপির বাসায় সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
এনসিপি ইতিমধ্যে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দলটির নীতি ও আচরণ এখন জামায়াতের পকেটে চলে গেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যর্থ করতে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের মতো ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের যারা ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছিল, তারা এখন জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত এখন ‘ক্ষমা প্রার্থনার’ অজুহাতে আওয়ামী লীগের সাবেক অপরাধী ও সুযোগ সন্ধানীদের আশ্রয় দিয়ে একটি পুনর্বাসন সেন্টারে পরিণত হয়েছে।
সভায় ঝিনাইদহ জেলা ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

