বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সুপার লিগের খরচ বাবদ প্রিমিয়ার লিগের ৬ ক্লাবের কাছে অর্থ চায় রেয়াল মাদ্রিদ

প্রতিষ্ঠাতা প্রকল্প থেকে সরে যাওয়া ক্লাবগুলোর কাছে ৮ কোটি ইউরো দাবি, মোট ব্যয় প্রায় ৯ কোটি ডলার হতে পারে

ইউরোপিয়ান সুপার লিগ (ইউএসএল) প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার কয়েক বছর পর এবার এর প্রতিষ্ঠাকালীন খরচ বাবদ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ছয়টি ক্লাবের কাছে অর্থ দাবি করেছে রেয়াল মাদ্রিদ। ২০২১ সালে প্রতিযোগিতাটি চালুর পর ব্যাপক বিরোধিতার মুখে যে ক্লাবগুলো দ্রুত নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, তাদের মধ্যে রয়েছে আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যাম হটস্পার।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে অর্থ দাবি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রেয়াল মাদ্রিদ। সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপার লিগ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮ কোটি ইউরো বা প্রায় ৯ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ব্যয়ের অংশ হিসেবে ইংলিশ ক্লাবগুলোর কাছে অর্থ চাইছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

প্রতিষ্ঠার তিন দিনের মধ্যেই সরে যায় ক্লাবগুলো

২০২১ সালে ইউরোপের শীর্ষ কয়েকটি ক্লাবকে নিয়ে সুপার লিগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত এই প্রতিযোগিতার ১২টি প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবের মধ্যে ছিল ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ফুটবল দল। তবে সমর্থক, ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রতিযোগিতা ঘোষণার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই নয়টি ক্লাব নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। ওই নয় ক্লাবের মধ্যে ছিল প্রিমিয়ার লিগের এই ছয়টি দল।

রেয়াল মাদ্রিদ তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, আগেভাগে প্রকল্প থেকে সরে যাওয়া অন্য তিন ক্লাব—এসি মিলান, ইন্টার মিলান ও আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছ থেকেও তারা অর্থ দাবি করছে কি না।

প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয়ের দায় নিয়ে বিরোধ

রেয়াল মাদ্রিদের দাবি, সুপার লিগ প্রতিষ্ঠার সময় হওয়া ব্যয়ের দায় ওই ছয় ইংলিশ ক্লাবেরও রয়েছে। এখন পর্যন্ত জুভেন্তুস, বার্সেলোনা ও রেয়াল মাদ্রিদ এ ব্যয় বহন করেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রিমিয়ার লিগের বাকি পাঁচটি ক্লাব তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবগুলো প্রতিযোগিতাটির হোল্ডিং কোম্পানি ‘ইউরোপিয়ান সুপার লিগ কোম্পানি’র জন্য একটি শেয়ারহোল্ডার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে ওই চুক্তিতে প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক ব্যয়ের জন্য ক্লাবগুলোর দায়বদ্ধতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

একক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়ে গেছে রেয়াল

প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলোর বড় অংশ সরে দাঁড়ানোর পর অল্প সময়ের মধ্যেই সুপার লিগের প্রাথমিক উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে যায়। পরবর্তী সময়ে জুভেন্তুসও প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ায়। গত ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলে রেয়াল মাদ্রিদই প্রকল্পটির একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ক্লাব হিসেবে থেকে যায়।

সুপার লিগকে ঘিরে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, ক্লাব ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলেছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি রেয়াল মাদ্রিদ, উয়েফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবগুলো এ-সংক্রান্ত আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি নীতিগত চুক্তির ঘোষণা দেয়।

তবে প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় নিয়ে নতুন করে অর্থ দাবির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর মধ্যে আর্থিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন