শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম সংস্কারে ৯ কোটি টাকার বরাদ্দ, ব্যয় ৫ কোটি: দুদকের অনুসন্ধান

অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে কমিউনিকেশন টেকনোলজির সিইওসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত

জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম মেরামত ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৯ কোটি টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ঘটনায় অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

এপ্রিলে অনুসন্ধান শুরু

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম প্রকল্পে অনিয়ম এবং জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। তবে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার সিস্টেমটিতে ত্রুটি দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিস্টেমটি মেরামত ও সংস্কার করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত বিভাগের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আশরাফুল হকের তত্ত্বাবধানে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ করে। পরবর্তী সময়ে সিস্টেমটির মেরামত ও সংস্কারের দায়িত্বও পায় একই প্রতিষ্ঠান।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসাৎ করা অর্থের কোনো অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিশন।

স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটা নিয়েও অভিযোগ

দুদকের মহাপরিচালক আরও জানান, জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল সরঞ্জাম কেনাকাটায় শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও অনুসন্ধান চলছে।

তবে সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম প্রকল্প কিংবা স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটা—কোনো ক্ষেত্রেই অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন