বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রামে ছেলের ছুরিকাঘাতে মা নিহত, বাবাও আহত

হত্যাকাণ্ডের ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ছেলে আটক, মাদকাসক্তি ও মানসিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন স্বজনেরা

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ছেলের ছুরিকাঘাতে পারুল বেগম নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে ছেলের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী সরদার আলী। ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ছেলে মুত্তাকিন আলম শোভনকে (৩৪) আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

নিহত পারুল বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা সরদার আলীর স্ত্রী। আহত সরদার আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড

পুলিশ ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শোভন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি ও মানসিক অসুস্থতাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে স্বজনেরা দাবি করেছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিরাজগঞ্জের একটি মাদকাসক্তি পরামর্শ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস আগে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিছুদিন স্বাভাবিক থাকার পর আবারও তাঁর মধ্যে অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায় বলে জানান স্থানীয়রা।

তাঁকে পুনরায় পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করা হলে বুধবার ভোর ৪টার দিকে কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী তাঁদের বাড়িতে আসেন। বাড়িতে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শোভন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

এ সময় পারুল বেগম ছেলেকে শান্ত করতে গেলে শোভন ছুরি দিয়ে তাঁর বুকে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে। স্ত্রীকে বাঁচাতে সরদার আলী ছেলেকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শোভন বাবাকেও ছুরিকাঘাত করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মাকে মৃত ঘোষণা

ঘটনার পর প্রতিবেশীরা পারুল বেগম ও সরদার আলীকে ইজিবাইকে করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। সরদার আলী গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ছেলে আটক

ঘটনার খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের হরিকেশ বাউদিয়াছড়া এলাকা থেকে শোভনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালিব বলেন, শোভনের আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে তাঁর বড় ভাই আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এ নিয়ে এলাকার লোকজনও আতঙ্কে ছিলেন। মায়ের সঙ্গে ছেলের এমন আচরণ হবে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি।

ওসি কামাল হোসেন বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন