রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে: পরিবেশমন্ত্রী

কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

রোববার (১৬ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার এবং এর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নির্মাণ খাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারে গুরুত্ব

সভায় সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে চলমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানো এবং কাঁচামাল কেনার সময় পরিশোধিত ভ্যাটের রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্য ও নির্মাণবর্জ্য পুনর্ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়।

এসব বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ব্লকের মান নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

পরিবেশবান্ধব ব্লকের মান নিশ্চিত করতে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল দপ্তরকে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্লক ব্যবহারে প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও রাজমিস্ত্রিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইটভাটায় আধুনিক প্রযুক্তির তাগিদ

দিনের দ্বিতীয় সভায় ইটশিল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এতে ইটশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, পরিবেশগত মান ও আইন পরিপালন, কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যবহার এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থায় রূপান্তরের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

সভায় প্রচলিত ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব কমানো এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইট উৎপাদনে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ইট উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

দ্রুত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে যাওয়ার আহ্বান

সভায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ রক্ষা করে বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে সরকার। এ কারণে ইটভাটার মালিকদের দ্রুত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।

ইটশিল্পের প্রতিনিধিরা সভায় খাতটির বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে তাঁদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কংক্রিট ব্লক ও ইট উৎপাদনকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন