শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর পাল্টা হামলার দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বৃহস্পতিবার ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে কেশম দ্বীপসহ বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, কিছু আঞ্চলিক দেশের সহযোগিতায় এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে, যদিও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকার আগ্রাসী ও সন্ত্রাসী বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।” ইরানের দাবি, এর জবাবে মার্কিন নৌজাহাজগুলোতে “উল্লেখযোগ্য ক্ষতি” করা হয়েছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা “উসকানিবিহীন ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে” এবং আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কোনো মার্কিন সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

এদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মিনাবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম দাবি করেছে, ইরানের হামলার মুখে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বন্দর অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই সামরিক সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ইরানি জাহাজ আটক এবং আরও কয়েকটি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এর মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তির সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সেই প্রচেষ্টাকে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন