অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ফ্রি অ্যাপ ডাউনলোডে ফাঁদ: মোবাইল হ্যাক করে ব্যাংক হিসাব খালি করার নতুন কৌশল

বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে সাইবার অপরাধীদের নতুন কৌশল হিসেবে সামনে এসেছে ফ্রি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা। বিভিন্ন লোভনীয় অফার বা প্রয়োজনীয় সেবার নামে অ্যাপ ডাউনলোড করিয়ে ব্যবহারকারীর ফোনে অনুপ্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীরা অনেক সময় অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় না বুঝেই বিভিন্ন অনুমতি (পারমিশন) দিয়ে দেন। এর মধ্যে থাকে কন্টাক্ট লিস্ট, এসএমএস, কল লগ, এমনকি স্ক্রিন কন্ট্রোলের অনুমতিও। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোনে দূর থেকে প্রবেশাধিকার পেয়ে যান।

বিশেষ করে Android–চালিত স্মার্টফোনে এই ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ অনেক ব্যবহারকারী Google Play Store ছাড়া অন্য উৎস থেকেও অ্যাপ ইনস্টল করেন। এসব অ্যাপে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার যুক্ত থাকে, যা ইনস্টল হওয়ার পর গোপনে কাজ শুরু করে।

প্রতারকরা সাধারণত ‘ফ্রি ইন্টারনেট’, ‘লোন অ্যাপ’, ‘ক্যাশব্যাক’, ‘গেম’ বা ‘ভিডিও অ্যাপ’–এর প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে। অ্যাপ ইনস্টল করার পর তা মোবাইলের এসএমএস পড়ে একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহ করতে পারে। এছাড়া স্ক্রিন রেকর্ডিং বা রিমোট অ্যাক্সেসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যাংকিং অ্যাপের তথ্যও হাতিয়ে নেয়।

অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ফোনে ‘রিমোট অ্যাক্সেস টুল’ সক্রিয় করা হয়, যার মাধ্যমে প্রতারকরা সরাসরি মোবাইল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে ব্যাংক অ্যাপ খুলে টাকা ট্রান্সফার করা, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে লেনদেন করা—এসব কাজ সহজেই সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। অনেক ভুক্তভোগী প্রথমে বুঝতেই পারেন না কীভাবে তাদের হিসাব থেকে টাকা চলে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অজানা লিংক বা ওয়েবসাইট থেকে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অ্যাপ ইনস্টল করার সময় কী কী অনুমতি চাওয়া হচ্ছে তা খেয়াল করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় পারমিশন দেওয়া উচিত নয়।

এ ছাড়া ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, দুই স্তরের নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন) ব্যবহার এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোই এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধের প্রধান উপায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার এবং সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন