অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ইরানের হামলায় উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে নিন্দা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং এ হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেছে।

৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম আমিরাতকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটল। আমিরাতের কর্মকর্তারা জানান, একটি ড্রোন হামলায় ফুজাইরাহ পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ জোনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি খালি তেলবাহী জাহাজও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

যদিও ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক দুঃসাহসিকতা’কে দায়ী করা হয়েছে। পাশাপাশি আমিরাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান।

এই ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান একযোগে হামলার নিন্দা জানিয়ে আমিরাতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। সৌদি আরব একে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের আক্রমণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

কাতার বলেছে, এই হামলা আমিরাতের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। কুয়েত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে ঘটনাটিকে উল্লেখ করেছে।

বাহরাইন এ ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে অভিহিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি আমিরাতের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারাও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনের দাবি তোলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি হামলাকে ‘অকারণ’ আক্রমণ বলে উল্লেখ করে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে আঞ্চলিক মিত্রদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও হামলার নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপের ওপর জোর দেন।

এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এ হামলাকে ‘নৌপথ নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন