অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশের খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট।

এই বিজয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেল বাংলাদেশ। আগামী এক বছরের জন্য খলিলুর রহমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ বহুপাক্ষিক এই ফোরামের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। কূটনৈতিক মহলে এই বিজয়কে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশটির অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও দেশটির একজন প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশিষ্ট কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম বাংলাদেশি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ৮১তম অধিবেশনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। এসব ইস্যুতে সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে দেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের বিজয় শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ অর্জনই নয়, বরং বৈশ্বিক পরিসরে দেশের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও সৃষ্টি করবে। আগামী এক বছরে জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন