অনুসরণ করুন:
সোমবার, ১ জুন ২০২৬

অবরোধের মধ্যেও ক্যানসার চিকিৎসায় সাফল্য, কিউবার ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা

দশকের পর দশক যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও চিকিৎসা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে কিউবা। দেশটির বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসামূলক ভ্যাকসিন ‘সিমাভ্যাক্স-ইজিএফ’ (CIMAvax-EGF) বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কিউবার রাজধানী হাভানাভিত্তিক সেন্টার অব মলিকুলার ইমিউনোলজির গবেষকরা দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের গবেষণার মাধ্যমে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেন। এটি প্রচলিত অর্থে ক্যানসার প্রতিরোধের টিকা নয়; বরং উন্নত পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ইমিউনোথেরাপি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিমাভ্যাক্স-ইজিএফ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে সক্রিয় করে যাতে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রোটিনের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে টিউমারের বৃদ্ধি ধীর হতে পারে এবং রোগীর জীবনকাল ও জীবনমান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিনটি গ্রহণকারী অনেক রোগীর ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর হয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত কিছু ক্যানসার চিকিৎসার তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে এবং দেশটিতে সীমিত পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও কিউবার স্বাস্থ্যখাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেশটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে। ক্যানসার চিকিৎসায় সিমাভ্যাক্স-ইজিএফের মতো উদ্ভাবন সেই সক্ষমতারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসারের সম্পূর্ণ নিরাময় এখনও বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কিউবার এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন