অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, উত্তেজনা ভূমধ্যসাগরে

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী রাবার বুলেট ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোটিলার মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলের বাধা অভিযানের সময় বহরের একাধিক নৌযান গুলির মুখে পড়ে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরা বহরটিতে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি অবস্থানে থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজগুলোর গতিরোধের চেষ্টা করে এবং পরে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ফ্লোটিলার এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিরস্ত্র মানবিক মিশনে ছিলাম। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে। কয়েকটি নৌযান লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে এবং সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।”

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকার ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে এবং দাবি করে আসছে, নিরাপত্তার স্বার্থে গাজাগামী জাহাজগুলো তল্লাশি করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজায় সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে ইসরায়েল এসব উদ্যোগকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও সেখানে মানবিক পরিস্থিতিকে “ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছে।

এর আগে বিভিন্ন সময় গাজাগামী সহায়তা বহরকে আটকে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে ২০১০ সালে ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে ইসরায়েলি অভিযানে কয়েকজন কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল।

সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা না দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন