শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

‘হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে’: মার্কিন বাহিনীকে ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি। মার্কিন নৌবহরকে লক্ষ্য করে ইরানের ‘হুট’ অস্ত্র নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবহরের বিরুদ্ধে নিজেদের কথিত “গোপন অস্ত্র” ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, ‘হুট’ নামের এই সুপার টর্পেডো মার্কিন রণতরীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ইরানি নৌবাহিনীর এই অস্ত্রের নাম ‘হুট’, যার অর্থ ফার্সি ভাষায় ‘তিমি’। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত এক ধরনের “সুপার-ক্যাভিটেটিং টর্পেডো”, যার প্রযুক্তিগত ভিত্তি রাশিয়ার ‘ভিএ-১১১ শকভাল’ টর্পেডোর সঙ্গে মিল রয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ‘হুট’ পানির নিচে ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম, যা প্রচলিত টর্পেডোর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। সাধারণ টর্পেডোর গতি যেখানে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে, সেখানে ‘হুট’কে “হাইপারসনিক ডুবো অস্ত্র” হিসেবেও বর্ণনা করছেন কেউ কেউ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির মূল শক্তি হলো “সুপার-ক্যাভিটেশন” পদ্ধতি। টর্পেডোর চারপাশে গ্যাসের বুদবুদ তৈরি করে পানির ঘর্ষণ কমিয়ে আনা হয়, ফলে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হতে পারে অস্ত্রটি।

পশ্চিমা বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণ বলছে, ‘হুট’ প্রায় ২০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম হলেও এর কার্যকর পাল্লা মাত্র ১৫ কিলোমিটার। ফলে লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে হয়। এ কারণে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী বা “ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ”-এর বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ভেদ করা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ঘিরে থাকে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, ক্রুজার ও সাবমেরিনের বিশাল প্রতিরক্ষা বলয়। ফলে ইরানি নৌবাহিনীকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে গিয়ে ‘হুট’ ব্যবহার করতে হতে পারে।

তবে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা দাবি করছেন, সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরী প্রবেশ করলে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো সহজ হবে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবহর যদি প্রণালির ভেতরে প্রবেশ করে, তাহলে ইরানি টর্পেডো ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে চলে আসবে তারা।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সন্দীপ উন্নিথান বলেন, “সুপার টর্পেডোর গতি এত বেশি যে সেটিকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তবে এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সীমিত এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।”

এদিকে ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “খুব শিগগিরই নতুন অস্ত্র দিয়ে শত্রুর ওপর আঘাত হানব আমরা। আশা করি, এতে তাদের হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে না।”

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে ইরানকে “ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার” মুখোমুখি হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘হুট’ বাস্তবে কতটা কার্যকর তা এখনো পরীক্ষিত নয়। তবে এটি যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও সামরিক কৌশলগত আতঙ্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে প্রায় সবাই একমত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন