বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ব্যবসা শুরু সহজ করা হবে, ২৫-২৬ লাইসেন্সের জটিলতা কমানোর ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর

ঢাকা, ৭ মে : দেশে ব্যবসা শুরু করতে বিদ্যমান জটিল প্রক্রিয়া সহজ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বর্তমানে একটি ব্যবসা শুরু করতে ২৫ থেকে ২৬ ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘১ম আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে বড় সমস্যা যেটা দেখেছি সেটা হলো ব্যবসার প্রসেসগুলো অনেক জটিল। একটা ব্যবসা শুরু করার জন্য এই প্রসেসটাকে আমরা সহজ করে দেব।”

তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো উদ্যোক্তা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে কোম্পানি নিবন্ধন করলে তাকে একসঙ্গে একটি প্রভিশনাল ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যায়।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে দেশ। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মানের বিদেশি অপারেটরদের যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে একটি ডেনিশ কোম্পানি কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে।

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। তাই সাময়িক বা ‘স্টপ-গ্যাপ’ সমাধানের সুযোগ নেই। টেকসই সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়ে তিনি বলেন, বহু শিল্পকারখানা বছরের পর বছর অলস বা লোকসানি অবস্থায় পড়ে আছে, যা সরকারের ওপর বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ তৈরি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জমি ও সম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে ধাপে ধাপে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করা।”

তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০টি এবং বস্ত্র ও পাট খাতের অধীনে আরও প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোথাও আধুনিকায়ন, কোথাও নতুন শিল্প স্থাপন এবং কোথাও রপ্তানিমুখী উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক প্যাকেজিং শিল্পের বাজার বিশাল এবং বাংলাদেশকে এ খাতে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।

অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর এবং এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্লাস্টিক খাতে ৬ হাজারের বেশি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রপ্তানিমুখী। এ খাতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং দেশীয় চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি পূরণ করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন