বুধবার, ৬ মে ২০২৬

হারিনি, তাই পদত্যাগও নয়: মমতা; পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক বিতর্ক তুঙ্গে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনে হারেনি; বরং ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কলকাতার কালীঘাট-এ নিজ বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।” তিনি নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশন-কে দায়ী করে অভিযোগ করেন, কমিশনের সহযোগিতায় শতাধিক আসন হাতছাড়া হয়েছে।

মমতার ভাষ্য, “বিজেপি যদি স্বাভাবিকভাবে জিতত, তাহলে অভিযোগ থাকত না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখানে একটি কালো ইতিহাস তৈরি করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলি, অভিযান পরিচালনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ প্রভাবিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এখনো তৃণমূলের পাশে রয়েছেন এবং তিনি “রাস্তায় থেকেই” আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁর ভাষায়, “আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।”

এদিকে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে পদত্যাগ না করলেও ওই দিন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন মমতা। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর পদ শেষ হয়ে যাবে।

সংবিধানে ভোটে হেরে যাওয়া কোনো মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নতুন নজির তৈরি করতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীদের পদত্যাগের রেওয়াজ দীর্ঘদিনের।

২০১১ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরাসরি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন—সেটিও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।

এদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মমতাকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জি যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে তাঁকে বরখাস্ত করা উচিত।”

তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানালে এবং রাজ্যপাল তাদের আমন্ত্রণ জানালে সাংবিধানিক সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।

ইতোমধ্যে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব এবং হেমন্ত সোরেন ফোন করে সমবেদনা ও সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মমতা।

অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে নতুন সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন