বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান।

মঙ্গলবার রাতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমিরাতের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি-তে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা স্পষ্টভাবেই ঘোষণা করা হতো। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

এর আগে সোমবার আমিরাত দাবি করে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় আমিরাত ফুজাইরাহ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। মঙ্গলবারের হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ উত্তেজনা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ-অভিযান শুরু করেছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি রপ্তানি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে হয়ে থাকে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজে হামলা বা হুমকির মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের তেল রপ্তানি, জরুরি পণ্য আমদানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার ইরান দাবি করে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যদিও ইরান থেকে মার্কিন নৌসম্পদ ও মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে এবং ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।

সোমবার আমিরাতের দিকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ব্যালিস্টিক ছিল বলে জানানো হয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষের দাবি, সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে ফুজাইরাহর তেল টার্মিনালে আগুন লাগে। ওই স্থাপনাটি প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ওমান উপসাগর হয়ে জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ দেয়।

ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ভারত সরকার এ ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছে।

উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষার অভিযানটি সাময়িক এবং মার্কিন বাহিনী ইরানের জলসীমা বা আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা সংঘাত চাই না।”

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আগে পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতে আমিরাতে অন্তত ২ হাজার ৮০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশ কিংবা ইসরায়েলের চেয়েও বেশি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন