অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হারের পর বিভিন্ন জেলায় অশান্তি, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। দু’দফার ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও সোমবার দুপুরের পর থেকে একাধিক স্থানে সহিংসতা, মারধর এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগের তির বিজেপির দিকে ছোঁড়া হয়েছে।

কলকাতার টালিগঞ্জে তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস পরাজিত হওয়ার পর রাতেই তাঁর বস্তি উন্নয়ন পর্ষদের অফিসের বাইরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী প্রায় ছয় হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন।

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরেও ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তৃণমূলের দাবি, তাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় এক উপপ্রধানের বাড়ি ও সামনে রাখা মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নদীয়ার শান্তিপুর এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যিনি হৃদযন্ত্রে পেসমেকার স্থাপন করা অবস্থায় ছিলেন। নবদ্বীপেও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলাফল ঘোষণার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে একটি বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে হুগলির ডানকুনিতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে সেখানে অন্য দলের পতাকা লাগানোর অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্য একটি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জয়লাভ করেছেন বলে জানা গেছে।

উত্তরবঙ্গের কোচবিহারেও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা অভিযোগে বিজেপির দাবি, তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ী এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং পোস্টার-ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরেও তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীর ওপর হামলা এবং দলীয় অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে ঘাটাল মহকুমার ছন্দকোণায় তৃণমূলের এক যুব নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উল্লেখ্য, এসব ঘটনায় একাধিক স্থানে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো সব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন