অনুসরণ করুন:
সোমবার, ৪ মে ২০২৬

যুদ্ধের প্রভাবে থমকে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, পাকিস্তানমুখী হচ্ছে ইরানের বাণিজ্য

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইরানিয়ান শিপিং অ্যান্ড রিলেটেড সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসউদ পোলমেহ। এতে করে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

পোলমেহ বলেন, “বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জেবেল আলি বন্দরের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এই রুট দিয়ে আর কোনো লেনদেন হচ্ছে না।” তিনি জানান, অতীতে জেবেল আলি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইরান সবসময় ওমানের সোহার ও সালালাহ, পাকিস্তানের করাচি এবং ভারতের মুম্বাইসহ একাধিক বন্দরের সঙ্গে লজিস্টিক সংযোগ বজায় রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দুবাই ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানে পণ্য প্রবাহ অব্যাহত ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের অ-তেল বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার বড় অংশই ছিল পুনঃরপ্তানি।

বিশ্লেষকদের মতে, জেবেল আলি বন্দর একসময় ইরানের সমুদ্রপথে আমদানির ৮০ শতাংশেরও বেশি সামাল দিত। তবে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই প্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে ইরান বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের বন্দরগুলো—করাচি, পোর্ট কাসিম ও গওয়াদর—ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই রুট ব্যবহারে পরিবহন খরচ ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইরানের এই পরিবর্তন দুবাইয়ের পুনঃরপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ইতোমধ্যে দুবাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা এলাকাগুলোতে লেনদেন ও পণ্য চলাচল কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নিজস্ব শিপিং কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। দেশটি বিকল্প রুট, স্থলপথ ও নিজস্ব বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে—যেখানে ইরান নতুন রুটে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে, আর দুবাই হারাতে পারে তার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সুবিধা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন