জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আরমান আহমেদ শাফিন হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা কলেজ এলাকা। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা হলপাড়া থেকে মিছিল নিয়ে রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য মিরপুর রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন—
“অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”,
“জুলাই যোদ্ধা মরলো কেন, প্রশাসন জবাব দে”,
“ইন্টেরিম জবাব চাই, আমার ভাই মরলো কেন”,
“জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস”,
“গুম-খুনের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না।”
‘আরমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে’ — শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
জানা গেছে, নিহত আরমান আহমেদ শাফিন ঢাকা কলেজের দর্শন বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি উত্তরা জুলাই যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করতেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন,
“আমাদের সহযোদ্ধা আরমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তাদের এই নীরবতা আমরা আর মেনে নেব না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন,
“সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে, প্রয়োজনে সারাদেশে ছাত্রসমাবেশ হবে।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন,
“এটা কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, আমাদের জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”
বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবার বলছে ‘হত্যা’
এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা ৮ নম্বর রেলগেট এলাকার নিজ বাসা থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মরদেহটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল, তবে খাটের ওপর হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্বজনদের অভিযোগ, আরমানকে ‘হত্যা করে পরে ফাঁসিয়ে রাখা হয়েছে’। তাঁরা বলেন, আরমান সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত কাজে সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে কিছু গোষ্ঠী তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।
পুলিশের বক্তব্য
উত্তরা পশ্চিম থানার এক কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। পরিবার যে অভিযোগ তুলেছে, তা তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
পটভূমি
আরমান আহমেদ শাফিন ছিলেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, যারা জুলাই জাতীয় সনদের দাবিতে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ও তার ঘিরে রহস্যজনক পরিস্থিতি ছাত্রসমাজে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, “শিক্ষার্থীদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
রাত পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সাইন্সল্যাব মোড় থেকে অবস্থান তুলে নিলেও, ‘ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’ বলে ঘোষণা দেন তারা।

