শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য দুবাইয়ে মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার সুযোগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের জন্য দুয়ার খুলছে মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার। এত দিন পর্যন্ত এ ভিসা পেতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বা সম্পত্তি ক্রয়ের প্রয়োজন হতো। তবে নতুন এই নীতির ফলে তুলনামূলক কম খরচে এ ভিসা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আগে দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা পেতে অন্তত ২ মিলিয়ন দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করতে হতো। এখন নতুন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতীয় নাগরিকেরা ১ লাখ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকার বেশি) ফি দিয়ে এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই পাইলট প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। এর দায়িত্ব পেয়েছে দুবাই-ভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা রায়াদ গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়াদ কামাল আইয়ুব প্রান্তকালকে জানান, “এটি বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। আগে গোল্ডেন ভিসা কেবল সম্পত্তি বা বড় বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এখন মনোনয়ন-ভিত্তিক ভিসার মাধ্যমে অনেক বেশি মানুষের কাছে এই সুযোগ পৌঁছাবে।”

কাদের জন্য ভিসা?

মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের পেশাগত দক্ষতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রোফাইল, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি যাচাই করা হবে। রায়াদ কামাল জানান, “আমিরাত সরকার চাইছে, যেসব ব্যক্তি ভিসা পাবেন, তারা অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, স্টার্টআপ, বাণিজ্য, পেশাগত সেবা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দেশের জন্য উপকারী হবেন।”

রায়াদ গ্রুপ প্রাথমিক যাচাই শেষে আবেদনগুলো সরকারের কাছে পাঠাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

কি সুবিধা থাকছে?

মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এটি স্থায়ী প্রকারের। রায়াদ বলেন, “সম্পত্তি-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্তি বিক্রি বা ভাগ হয়ে গেলে বাতিল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা একবার পেলে সেটি স্থায়ী হয়।”

এ ভিসাধারীরা তাদের পরিবারকে দুবাইয়ে নিয়ে আসতে পারবেন এবং তাঁদের ভিসার ভিত্তিতে গৃহকর্মী বা ড্রাইভারও নিয়োগ করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করা, পেশাদার কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়া কিংবা বিনিয়োগের সুযোগও থাকবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদনকারীদের প্রাথমিকভাবে নিজ দেশ থেকেই অনুমোদন নিতে হবে। পরে তাঁদের দুবাই ভ্রমণ করতে হবে। ভারত ও বাংলাদেশের জন্য ওয়ান ভাস্কো সেন্টার, অনলাইন পোর্টাল, নিবন্ধিত অফিস বা ডেডিকেটেড কল সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ভারতীয় এই নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অনুরূপ সাড়া আশা করছে রায়াদ গ্রুপ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের পাইলট প্রকল্প সফল হলে সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত অন্যান্য দেশেও এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

“এই ভিসা শুধু বসবাসের নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে,” বলেন রায়াদ কামাল আইয়ুব।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন