বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মুহুরী-সিলোনিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ফেনীতে ১৫ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ

টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের অন্তত দশটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে চিথলিয়া ইউনিয়নের মধ্যম ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর, শালধরে তিনটি স্থানে এবং পশ্চিম অলকায় মুহুরী নদীর বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। একই সময়ে মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম গদানগর, জঙ্গলঘোনা, উত্তর মনিপুর দাসপাড়া এবং মেলাঘরে সিলোনিয়া নদীর চারটি স্থানে বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

ফলে পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া, পশ্চিম অলকা, নোয়াপুর, সাতকুচিয়া, পূর্ব অলকা, জঙ্গলঘোনা, পশ্চিম গদানগর, মধ্যম ধনীকুন্ডা, উত্তর ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর, উত্তর মনিপুর, মধ্যম মনিপুরসহ অন্তত ১৫টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব প্রান্তকালকে জানান, “চিথলিয়ার বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। অনেক এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম জানান, “মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে নদীর তীরে বাঁধগুলো ভেঙে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

তবে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করছে, বাঁধ ভাঙনের ঘটনা পাঁচটি স্থানে ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী এই সংখ্যা দশের বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় ১৩১টি বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার এবং জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রাথমিকভাবে ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্লাবিত গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগে ব্যাঘাত, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্যানিটেশন সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অনেকে বাঁধের ভাঙন রোধ ও দ্রুত মেরামতের দাবি তুলেছেন।

ফুলগাজীর পশ্চিম গদানগরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “মুহুরী নদীর পানি হুহু করে ঢুকছে। ঘরবাড়ি, ফসল সব পানির নিচে। আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে, কিন্তু সেখানে জায়গা কম। শিশুদের নিয়ে কষ্টে আছি।”

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও ত্রাণ ও সহায়তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন