শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ডিএনসিসি এলাকায় বড় অবকাঠামোতে বায়ুমান ও শব্দ পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন বাধ্যতামূলক— প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ

ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৫:

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় নির্মিতব্য সকল বড় অবকাঠামোতে বাধ্যতামূলকভাবে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্র এবং শব্দ পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সেমিনার হলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনার কথা জানান।

প্রশাসক জানান, ইতোমধ্যে ডিএনসিসির ১০টি স্থানে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্র স্থাপন করে নিয়মিতভাবে পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নতুনভাবে নির্মিত ভবনগুলোতে এসব যন্ত্র স্থাপন করা হলে অঞ্চলভিত্তিক বায়ুমান ও শব্দ দূষণ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে, যা নগর ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

“প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়”—এই প্রতিপাদ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ৩৩টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এবং সঞ্চালনা করেন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।

সেমিনারে বক্তারা সিঙ্গেল ইউজ পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং নাগরিকদের ব্যক্তিপর্যায়ে এর ব্যবহার বর্জনের আহ্বান জানান।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “নগরের পরিবেশ রক্ষায় আমরা রাজউক, বন অধিদপ্তর, ওয়াসা, তিতাস গ্যাসসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, উত্তরা ও পূর্বাচলের মতো নতুন ঢাকা এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ আচ্ছাদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শহরের বায়ুমান উন্নয়নে ‘জিরো সয়েল’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সেমিনারে একাধিকবার তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সিঙ্গেল ইউজ পলিথিন কেবল পরিবেশ নয়, নগরের জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই এর ব্যবহার এখনই সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।”

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত সকল বেসরকারি ও পরিবেশবাদী সংগঠনকে নগরের পরিবেশ উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “সিঙ্গেল ইউজ পলিথিন এখনই বর্জন করতে না পারলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে।”

সেমিনারে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা পরিবেশ রক্ষায় বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময়ে অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন