মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে আট স্টেশন ও ১১.৫ কিমি উড়ালপথ নির্মাণ

এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫-এর আওতায় ডিপোর অবকাঠামো, আটটি স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে

রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ডিপোর অবকাঠামো, ১১.৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

লাইন-১-এ ৪৯টি স্থাপনা, তিনটি উড়াল স্টেশন

এমআরটি লাইন-১-এর ডিপোর জন্য ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া এ লাইনের আওতায় ৫.০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটে ৬.৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি এ রুটের ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজও বাস্তবায়ন করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম।

এ সময় জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।”

তিনি নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় রাখা, প্রকল্প এলাকার আশপাশের বাসিন্দাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানান।

চার প্যাকেজে যেসব কাজ হবে

এমআরটি লাইন-১-এর কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০২-এর আওতায় ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জেভির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজে পাতালপথ থেকে উড়ালপথে ওঠার ট্রানজিশন পয়েন্ট থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫.০০৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুলে তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জেভি।

এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার (ওসিসি), ডিপো কন্ট্রোল সেন্টার (ডিসিসি), স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য ‘সিপিসি-হানিল জেভি’-এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

অন্যদিকে, সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬.৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের চুক্তিও হয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জেভির সঙ্গে।

যানজট কমানো ও গণপরিবহন উন্নয়নের লক্ষ্য

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চারটি প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে অগ্রগতি হবে। এর মাধ্যমে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা, যানজটের চাপ কমানো এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে যাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন