ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে জয়ে চোখ বাংলাদেশের, লিটনের খেলা নির্ভর করছে ফিটনেসের চূড়ান্ত মূল্যায়নে
টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক উন্নতির ধারা ধরে রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের সিরিজকে নিজেদের প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে খেলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
বুধবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে শান্তর দল। ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত যোগ্যতা অর্জনের হিসাব-নিকাশে মনোযোগ দিতে চান না অধিনায়ক। বরং প্রতিটি ম্যাচ ও সেশনে ভালো ক্রিকেট খেলাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।
ফাইনালের হিসাব নয়, আপাতত দুই টেস্টে মনোযোগ
মঙ্গলবার মিরপুরে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, দূরের লক্ষ্য নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে আসন্ন দুই ম্যাচের সিরিজেই মনোযোগ দিতে চান তাঁরা।
“আমি বেশি দূরের কথা ভাবছি না। আমরা শুধু এই টেস্ট, কিংবা বলা যায়, দুই ম্যাচের সিরিজটি নিয়েই ভাবছি। এই ম্যাচগুলো জিততে পারলে আমাদের লক্ষ্যগুলো এমনিতেই পূরণ হবে।”
ডব্লিউটিসির ফাইনালে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশের বাকি ছয় টেস্টের অন্তত চারটিতে জয় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটি ড্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সমীকরণকে চাপ হিসেবে দেখছেন না শান্ত। তাঁর কাছে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বরং অনুপ্রেরণার উৎস।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, “এটি চাপ নয়, অনুপ্রেরণা। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চাই এবং যা করার সামর্থ্য আছে, তার শতভাগ দিতে চাই। এর বাইরে বাড়তি কিছু করতে চাই না।”
প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ অধিনায়ক
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শান্ত। আফগানিস্তান সিরিজ শেষে দেশে ফিরে যেসব খেলোয়াড় আগেভাগে অনুশীলন শুরু করেছিলেন, তাঁদের প্রস্তুতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
জিম্বাবুয়েতে ক্যাম্প করাসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে স্বীকার করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে নিজেদের হাতে থাকা সময়ও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
শান্ত বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়দের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আমরা একের পর এক সিরিজ খেলছি এবং ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। খেলোয়াড়েরা নিজেদের পরিবেশে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রস্তুতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।”
ধারাবাহিকতা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ
দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন শান্ত। তাঁর মতে, সর্বশেষ দুই-তিনটি টেস্টে বাংলাদেশ আগের মতো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দলের ভেতরে আলোচনা হয়েছে এবং উন্নতির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শান্ত বলেন, “ধারাবাহিকতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। গত দুই-তিনটি টেস্টে আমরা আগের মতো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি। কীভাবে উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এ জন্য অনেক পরিকল্পনাও রয়েছে।”
আগামী দিনগুলোতে দলের পারফরম্যান্স আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উন্নত করা সম্ভব বলে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর মতে, সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে টেস্টে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র থেকে শিক্ষা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন শান্ত। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় এবং দেশের বাইরে ভালো পারফরম্যান্সকে এই উন্নতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট ড্র হওয়ায় হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর বিশ্বাস, ম্যাচটি জেতার যথেষ্ট সুযোগ ছিল দলের সামনে।
শান্ত বলেন, “অবশ্যই আমাদের ম্যাচটি জেতা উচিত ছিল। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আমরা পাঁচ দিনই কঠোর লড়াই করেছি। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সবাই অসাধারণ মনোযোগ দেখিয়েছে।”
জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হলেও পাঁচ দিনের লড়াইয়ে দলের ইতিবাচক দিকগুলো দেখেছেন শান্ত। বিশেষ করে শেষ সেশন পর্যন্ত খেলোয়াড়দের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাঁকে আশাবাদী করেছে। ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করেন তিনি।
লিটন দাসের খেলা নিয়ে অপেক্ষা
দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন শান্ত। তাঁর মতে, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে স্বস্তি দেয়।
এদিকে লিটন দাসের ফিটনেস নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাটিং ও ফিল্ডিং অনুশীলন শেষ করেছেন এই ব্যাটার। তবে তাঁর খেলার বিষয়ে ফিজিওথেরাপিস্ট ও ট্রেনারের চূড়ান্ত মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে দল।
শান্ত বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকলে সে খেলবে। তবে এখনো আমি চূড়ান্ত রিপোর্ট পাইনি।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে লিটন থাকবেন কি না, তা নির্ভর করছে তাঁর ফিটনেসের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর।

