বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ, শেষ সিরিজে অবস্থান উন্নত করতে চায় ক্যারিবীয়রা।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে দুই দলের অবস্থান বিপরীত মেরুতে। একদিকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ, অন্যদিকে শেষ সিরিজে ভালো ফল করে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান উন্নত করতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলের কোচই মনে করছেন, আসন্ন সিরিজটি হতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বুধবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট।
ফাইনালের স্বপ্ন বাংলাদেশের
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে এখন পর্যন্ত তিনটি সিরিজে ছয়টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে জয় এবং একটিতে ড্র করেছে দলটি। সব মিলিয়ে ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সামনে বাংলাদেশের বাকি আছে আরও ছয়টি টেস্ট।
প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ধরে রাখতে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্টেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অন্তত একটি টেস্ট ড্র করতে হবে। এর সঙ্গে অন্য দলগুলোর সিরিজের ফলও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে। সব হিসাব মিলে গেলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের সামনে।
সুযোগ কাজে লাগাতে চান সিমন্স
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার অভিযানের পরবর্তী ধাপ শুরু হচ্ছে। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, দলের খেলোয়াড়েরা টেস্ট ম্যাচের দিকে পুরোপুরি মনোযোগী। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা সবার মধ্যে রয়েছে। এবারই প্রথম বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে পৌঁছানোর সুযোগ এসেছে। তাই টেস্ট ম্যাচগুলোতে সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
প্রস্তুতি ও দলীয় প্রচেষ্টায় গুরুত্ব
চলতি চক্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্টে জয় পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠেও ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ পেয়েছে দলটি। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ।
আগের সিরিজগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বিষয়ে সিমন্স বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুই বছরের চক্রে প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাফল্যের জন্য নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করা এবং যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়াই মূল বিষয়।
কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে দলের খেলোয়াড়েরা ভালোভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। এখন পুরো দল একসঙ্গে যোগ দেওয়ার পরের দুই দিনের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের পরিস্থিতির চেয়ে দল হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
শেষ সিরিজে অবস্থান বদলাতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ
বাংলাদেশের বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ফাইনালে ওঠার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে চলতি চক্রের শেষ সিরিজে ভালো ফল করে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান উন্নত করার সুযোগ রয়েছে দলটির। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়েই শেষ হবে ক্যারিবীয়দের এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযান।
এখন পর্যন্ত পাঁচটি সিরিজে ১২টি টেস্ট খেলে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০.৮৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে নয় দলের তালিকায় তাদের অবস্থান অষ্টম। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের তিনটি চক্রেও অষ্টম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছিল দলটি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে এবার আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে থেকে চক্র শেষ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামিও এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান।
জয় পেতে কার্যকর পরিকল্পনার কথা স্যামির
সংবাদ সম্মেলনে ড্যারেন স্যামি বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্টই তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছিলেন, তা অর্জনের পথে এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান জানানো, তাদের খেলা বিশ্লেষণ করা এবং জয়ের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে অবস্থানে থেকে চক্র শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, সেই লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ সিরিজকে কাজে লাগাতে চায় দলটি।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক আকর্ষণের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরা টেস্ট ক্রিকেটে আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না, সংবাদ সম্মেলনে স্যামির কাছে এমন প্রশ্নও করা হয়। প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেন ক্যারিবীয় দলের প্রধান কোচ। পরে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি দলের মনোযোগের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন তিনি।
স্যামি বলেন, তাঁরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করার সময় এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে চান, যার কথা অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে বার্বাডোজে বলেছিলেন। বাংলাদেশ সিরিজ শেষে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত অবস্থানের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্টকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই খেলবে। ফলে একদিকে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান উন্নত করার লক্ষ্য—দুই দলের ভিন্ন সমীকরণে জমে উঠতে পারে আসন্ন টেস্ট সিরিজ।

